দারুন ৫টি ইউটিউব চ্যানেল আইডিয়া ২০২২

আপনি কি ইউটিউব চ্যানেল করতে চান? এবং ইউটিউবে আপনার ক্যারিয়ার করতে চান? কিন্তু কি বিষয়ে বা কি টপিকে চ্যানেক খুলবেন তা খুঁজে পাচ্ছেন না?

তাহলে আপনি ঠিক জায়গায় চলে এসেছেন। আজকের পোস্টে আমি বাছাই করা সেরা ৫টি ইউটিউব চ্যানেল নিশ বা টপিক শেয়ার করবো। এর মধ্যে আপনার পছন্দের টপিকটি বেছে নিয়ে চ্যানেল শুরু করুন।

দারুন ৫টি ইউটিউব চ্যানেল আইডিয়া

চ্যানেল শুরু করার আগে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো চ্যানেলের জন্য টপিক বা নিশ বাছাই করা। আপনি যদি দীর্ঘমেয়াদি ভাবে ইউটিউব নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে টপিক বাছাই করা জরুরি।

একটি চ্যানেল করলেন তাতে আওনি পাঁচমিশালি ভিডিও দিতে শুরু করেন তাহলে সফল হতে পারবেন না। কারন আপনার ভিউয়াররা বুঝতে পারবে না চ্যানেলটিতে তারা কি ধরনের ভিডিও পাবে, তাই তারা সাবসক্রাইবও করবে না।

আর আপনি যদি একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করেন তাহলে সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কারন আপনার ভিউয়াররা বুঝতে পারবে এতে কি ধরনের ভিডিও পাওয়া যাবে এবং তাদের কাছে আপনার ভিডিও পছন্দ হলে সাবক্রাইবও করে দিতে পারে।

তাই পাঁচমিশালি ভিডিও না বানিয়ে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ভিডিও বানানো উচিৎ। আর তার জন্য আপনাকে একটি নিশ বাছাই করতে হবে যা আপনি ভালো বুঝেন এবং সেই টপিকে ভিডিও বানাতে পারবেন।

১. গেমিং

গেমিং চ্যানেল

বর্তমানে গেমিং একটি খুবই জনপ্রিয় টপিক। কারন তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে অফলাইন স্পোর্টস এর চেয়ে অনলাইন গেমিং, মোবাইল গেমিং, ইত্যাদির জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।

তাছাড়া সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন চলে আসার করনে গেমস মানুষের মাঝে বেশ জনপ্রিয় একটি বিনোদন এবং অবসর সময় কাটানোর মাধ্যম।

আপনি গেমিং নিয়ে ইউটিউব চ্যানেল শুরু করতে পারেন। ইউটিউবে এখন হাজার হাজার গেমিং ইউটিউব চ্যাবেল পাবেন, যারা শুধু তাদের গেমপ্লে ভিডিও আপলোড করে লক্ষ লক্ষ সাবসক্রাইবার বানিয়ে ফেলেছে।

বর্তমানে জনপ্রিয় মোবাইল গেমসগুলো, যেমনঃ Free Fire, PUBG, Mobile Legends, Minecraft, Clash of Clans, Arena of Valor, ইত্যাদি গেমস গুলো নিয়ে ভিডিও বানাতে পারেন।

আপনি ইচ্ছা করলে ভয়েস ছাড়া শুধু লাইভ স্ট্রিমিং করতে পারেন বা গেমসের নতুন নতুন ইভেন্ট, How to ভিডিও বা ভয়েস এড করে কিভাবে ইভেন্ট কমপ্লিট করতে হবে, কিভাবে ফ্রি স্কিন পাওয়া যাবে, এরকম টপিক নিয়ে ভিডিও বানাতে পারেন।

গেমিং একটি খুবই জনপ্রিয় নিশ যা নিয়ে কাজ করলে সফলতা পাবেনই। তাছাড়া ভবিষ্যতে এর জনপ্রিয়তা আরো বাড়বে। তাই এখনই শুরু করে দিন।

২. ওয়াজ-মাহফিল

ওয়াজ মাহফিল ইউটিউব চ্যানেল

ওয়াজ-মাহফিল বর্তমান সময়ের আরেকটি জনপ্রিয় টপিক। বাংলাদেশের মানুষের কাছে ধর্ম শিক্ষা এবং দ্বীনের দাওয়াত পৌছানোর অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ওয়াজ-মাহফিল।

প্রতি বছর বাংলাদেশের আনাচে কানাচে প্রচুর পরিমাণ ওয়াহ-মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আর সেখানে হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে। অনেক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ওয়াজ-মাহফিলের ভিডিও করে সেটি দিয়ি ইউটিউবিং করছে।

তাছাড়া ওয়াজ-মাহফিল একটি ভাইরাল টপিক। এই টপিক নিয়ে ভিডিও বানালে অনেক তারাতারি অনেক বেশি ভিও পাওয়া যায়। বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম প্রাণ মানুষ, তাই তারা ওয়াজ, মাহফিল ইত্যাদি নিয়ে ভিডিও দেখতে ও ইসলাম সম্পর্কে জানতে ভালোবাসেন।

আপনি এই বিষয়ে ভিডিও বানালে সফলতা পেতে পারবেন। তবে ওয়াজ-মাহফিল নিয়ে ভিডিও বানানো একটু কঠিন। কারন আপনাকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে ভিডিও ধারণ করতে হবে এবং ভিডিও করার জন্য ভালো একটি ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন লাগবে।

তবে আপনি চাইলে মোবাইল দিয়ে করতে পারেন। আপনি মোবাইল দিয়ে শুরু করলেন, পরে আস্তে আস্তে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, স্ট্যান্ড কিনে প্রফেশনালি কাজ শুরু করবেন।

৩. নিউজ

নিউজ চ্যানেল

নিউজ বা খবরের চ্যানেল আরেকটি দারুণ টপিক। প্রতিদিনের ঘটে যাওয়া নানা বিষয় নিয়ে ভিডিও বানিয়ে তা আপলোড করে টাকা আয় করতে পারবেন।

বিশেষ করে বিভিন্ন ভাইরাল টপিক, যেমনঃ পদ্মা সেতু, ইত্যাদি নিয়ে ভিডিও বানালে দ্রুত এবং সহজে অনেক বেশি ভিও পেয়ে যাবেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভাইরাল টপিক গুলো নিয়ে ভিডিও বানাবেন তাহলে ভিও বেশি পাবেন।

তবে নিউজ চ্যানেল নিয়ে কাজ করতে চলে খরচ বেশি এবং ভিডিওতে আপনার নিজেকে দেখাতে হবে, ভয়েস দিতে হবে কথা বলতে হবে। যা করার জন্য আত্মবিশ্বাস ও সুন্দর করে কথা বলার দক্ষতা থাকতে হবে।

তাছাড়া ভালো ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, লাইটিং, সুন্দর একটি রুম বা স্টুডিও, এবং ভিডিও ভালোভাবে এডিটিং করার জন্য ভালো একটা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ প্রয়োজন, যা খরচ সাপেক্ষ। তবে নিউজ বা খবরের চ্যানেল নিয়ে কাজ করলে সহজে সফলতা পাবেন তা বলা যায়।

৪. ফানি ভিডিও

ফানি ভিডিও

মানুষ কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটু বরতি নিতে পছন্দ করে এবং সারাদিনের ক্লান্তি পার করে দিনের শেষে অবসর সময়ে একটু রিফ্রেশং ও মন ভালো করা কিছু করতে ও দেখতে ভালোবাসে। আর ফানি ভিডিও হলো মন ভালো করার অনবদ্য একটি উপায়।

তাই ফানি ভিডিও নিয়ে কাজ করলে সফলতা পাওয়া সহজ। ফানি ভিডিও নিয়ে চ্যানেল খুললে অনেক মিলিয়ন মিলিয়ন ভিও পাওয়া যায়। কারন আমরা মন খারাপের সময় মন ভালো করতে বা অবসর সময় কাটাতে মজার বা ফানি ভিডিও দেখে থাকি।

ফানি ভিডিও বানানোর অনেক উপায় আছে। আপনি আপনার বন্ধুদের নিয়ে রিয়েল লাইফে শুটিং করে ভিডিও বানাতে পারেন বা আপনি চাইলে একা একাও শুধু ভয়েস দিয়েও ভিডিও বানাতে পারেন।

অথবা বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ, ছবির অংশ বা কোন টিভি শো ডাবিং করেও ফানি ভিডিও বানানো যায়, যেমনঃ Pagla Director Kaissha Funny Video.

তাছাড়া আরে অনেক ফানি বা কমেডি ভিডিও টপিক আছে, যেমনঃ প্র্যাংক ভিডিও, ফানি ডাবিং, ফানি কার্টুন, ফানি নাটক, ফানি শর্ট ভিডিও, ফানি রোস্টিং ভিডিও, ইত্যাদি।

৫. খাওয়াদাওয়া

খাওয়াদাওয়া

এটি আরেকটি ভাইরাল টপিক। ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক, সহ প্রায় সবগুলো ভিডিও শেয়ারিং সাইটে এখন খাওয়াদাওয়া নিয়ে ভিডিও বানালে অনেক ভিও পাওয়া যায়।

বিশেষ করে মুকবাং টাইপের ভিডিওগুলো বেশি ভাইরাল হয়। মুকবাং হলো একটি ইটিং শো, যেখানে হোস্ট কথা বলার পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের খাবার খেয়ে থাকেন।

মুকবাং ভিডিও জনপ্রিয় হওয়ার আরেকটি কারন হলো এতে খাওয়ার সময় যে আওয়াজ হয় তা খুব ক্লিয়ার ভাবে ভিডিওতে দেওয়া হয়। যা দেখতে এবং শুনতে অনেকের কাছে স্যাটিফাইং লাগে। তাছাড়া এসব মুকবাং ভিডিওতে প্রচুর পরিমাণ খাওয়া হয়, অনেকে দ্রুত অনেক খাবার খায়, অনেকে আজব সব খাবার খান।

তাই আপনি যদি খেতে ভালোবাসেন তাহলে খাওয়াদাওয়া বা মুকবাং ভিডিও বানাতে পারেন। এছাড়াও আপনি রান্নার ভিডিও, কিভাবে রান্না করতে হয়,  বিশেষ কোন রেসিপি, ইত্যাদি নিয়ে টিউটোরিয়াল ভিডিও বানাতে পারেন।

বন্ধুরা আজকের পোস্টে বর্ণিত প্রতিটি নিশ বা টপিক বাছাই করা এবং বর্তমান সময়ে ভাইরাল। তাই উপরের যেকোন একটি টপিক নিয়ে যদি ভালোভাবে কাজ করেন তাহলে সফলতা পাবেন নিশ্চিত।

তাই আপনি যদি ইউটিউবং করে ক্যারিয়ার করতে চান তাহলে উপরের যেকোম একটি বিষয় নিয়ে ভিডিও বানানো শুরু করুতে পারেন। আর টপিক বাছাই করার পাশাপাশি আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, সেটি হলো ধরাবাহিকতা।

মানে আপনাকে প্রতিদিন বা রেগুলারলি অন্তত একটি করে ভিডিও বানাতে হবে ও আপলোড করতে হবে তবেই সফলতা পাবেন ও বেশি পরিমাণ ভিও পাবেন। আপনি আজকে একটি ভিডিও বানালেন এরপর এক মাস ধরে কোন ভিডিও আপলোড করলেন না, তাহলে সফলতা পাবেন না।

ইউটিউবে সফলতা পেতে হলে কাজের ধারাবাহিকতা ও ডেডিকেশন ধরে রাখতে হবে এবং কোয়ালিটি কন্টেন্ট বানাতে হবে।

আরো পড়ুনঃ

 

Leave a Reply

Back to top button